ডিজিটাল ইউরো প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের (এমইপি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ৬০ জনের বেশি প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ। তাদের মতে, প্রকল্পটি ব্যর্থ হলে ইউরোজোন নিজেদের অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। খবর এফটি।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহে শুনানি হতে যাচ্ছে। এর আগে এমইপিদের উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে অর্থনীতিবিদরা বলেন, ‘শক্তিশালী ডিজিটাল ইউরো কোনো বিলাসিতা নয়। এটি ইউরোপের সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা ও সংকটে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য সুরক্ষা ব্যবস্থা।’
ডিজিটাল ইউরো বিষয়ে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) পরিকল্পনায় এরই মধ্যে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল, যার লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে নগদ অর্থের ইলেকট্রনিক সংস্করণ চালু করা। তবে চলতি বছরের শেষ দিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।
খোলা চিঠিতে অর্থনীতিবিদরা যুক্তি দেন, ইউরোপ বর্তমানে অতিমাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল। এতে ইউরোপ এমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে যা ভূরাজনৈতিক চাপ, বিদেশী বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং ইউরোপের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পদ্ধতিগত উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করেন, ইউরোজোনের ১৩টি দেশে নিজস্ব কোনো দেশীয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা নেই। এসব দেশ পুরোপুরি ভিসা, মাস্টারকার্ড ও পেপ্যালের মতো আন্তর্জাতিক কার্ড স্কিমের ওপর নির্ভরশীল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ কর্মকাণ্ড এ চিঠিতে সরাসরি আসেনি। তবে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহ ইউরোপের অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলোকে শুধু তাত্ত্বিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখেনি।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭২০ সদস্যের কাছে পাঠানো চিঠিতে লেখা হয়, ইউরোপ তার অর্থনীতির সবচেয়ে মৌলিক উপাদান অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে। একটি শক্তিশালী সরকারি ডিজিটাল ইউরোই আমাদের একমাত্র প্রতিরক্ষা।
এরই মধ্যে ডিজিটাল ইউরো প্রকল্পের পরিসর ছোট করার জন্য জোরালো লবিং শুরু করেছে ইউরোপের ব্যাংক খাত। গত নভেম্বরে ডয়চে ব্যাংক, বিএনপি পারিবাস ও আইএনজিসহ ইউরোপের ১৪টি বড় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, ডিজিটাল ইউরো চালু হলে মার্কিন পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় থাকা ইউরোপীয় বেসরকারি খাতের উদ্যোগগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জার্মানির শীর্ষ ব্যাংকিং লবি সংগঠন জার্মান ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি কমিটি ইসিবির পরিকল্পনাকে অতিরিক্ত জটিল ও অতি ব্যয়বহুল বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, এতে ভোক্তাদের জন্য ‘খুব সামান্য প্রকৃত সুবিধা’ রয়েছে।